VICTORY DAY PARADE – 2017

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর:- যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে জাতি ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় বিদস উদ্যাপন করেছে। সকাল দশটায় জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন।
উক্ত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরার মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, মাননীয় সংসদ সদস্যগণ, উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং বৈদেশিক কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর লেঃ জেনারেল (অব) জয় ভগবাণ সিং জাদব নেতৃত্বে ২৬ জন বীর যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিলেন। এছাড়াও রাশিয়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ ও কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অংশগ্রহণ করে । বিজয় দিবস প্যারেড-২০১৭ এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং এবং সাভার এরিয়া কমান্ডার, মেজর জেনারেল মোঃ আকবর হোসেন এবং উপ অধিনায়কের দায়িত্বপালন করেন ৮১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হোসাইন আল মোরশেদ। এছাড়া যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান।
কুচকাওয়াজের যান্ত্রিক বহরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্বলিত সুসজ্জিত গাড়ী বহর প্রদর্শিত হয়। এছাড়া এয়ারর্বোণ কন্টিজেন্টের অংশগ্রহণ এবং সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারগণ আকাশ থেকে অবতরণ করে কুচকাওয়াজকে আরো আকর্ষনীয় করে তোলে। বিভিন্ন যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনীর পরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে¬। বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্টের নেতৃত্ব দেন এয়ার কমডোর মোহাম্মদ মফিদুর রহমান।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এবারের প্যারেড বিভিন্ন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন ও প্যারেডকে উপভোগ্য করতে সার্বিক সাজসজ্জায় নতুন মাত্রা আনয়ন করা হয়েছে। বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ প্যারেড গ্রাউন্ডে আসার পথে সড়কগুলিতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিজয় দিবসের চেতনা সম্বলিত উলে¬খযোগ্য সংখ্যক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। ঢাকা শহরে সার্ক ফোয়ারা হতে জাহাঙ্গীর গেইট, বিজয় স্মরণী, বিজয় চত্বর, গণভবন হতে রোকেয়া স্মরণী হয়ে আগারগাঁও এবং রাসেল চত্বর হয়ে আমিন বাজার পর্যন্ত এই সকল ব্যানার ও বিলবোর্ড সমূহের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা বাঙলি জাতির অমর ইতিহাসের ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে মুক্তিদ্ধের সঠিক ইতিহাস। পোডিয়ামের উভয় পার্শ্বে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ছবি প্রদর্শিত হয়। প্যারেড গ্রাউন্ডের বিভিন্ন সাজসজ্জায় এবং পোডিয়ামের উভয় পার্শ্বে স্থাপিত বিভিন্ন বিলবোর্ড ও ফেষ্টুনে আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজের এ দুটি রং এর সংমিশ্রণে ফুটিয়ে তোলা হয়। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের শেষে এক মনোজ্ঞ Day Fire work এর মাধ্যমে এর ইতি টানা হয়।
মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ সুষ্ঠু ও সার্থক করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, টিঅ্যান্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পিডবি¬উডি, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকল কন্টিনজেন্ট কমান্ডারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।